Top News

KRIYA YOGA KRISHNA KATHA

ক্রিয়া যোগে কৃষ্ণ কথা 
(KRIYA YOGA KRISHNA KATHA)
ওম শ্রী পরমাত্মনে নমঃ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা  
( যুদ্ধক্ষেত্রে - যোগবার্তা )   
                                                                                                                                                                                        
                                                                                                                                             
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা একটি রসময় ও রহস্যময় গ্রন্থ। ইহা উপনিষদের সার, সংস্কৃত ভাষায় সেটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন। জীবন দর্শনের মুল চাবিকাঠি এতে নিহত। চার বেদ, ১১৮ উপনিষদ যাদের পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই বা পড়লেও বুঝার ক্ষমতা নাই তাদের জন্য উপনিষদের সার শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। এই বিশ্বসংসারে মানুষের অবস্থান নির্ভর করে তার কর্মের উপরে। ভালো কর্ম করলে মানুষ হয় দেবতা, খারাপ কাজ করলে হয় দানব। মানুষ কর্ম করে কর্মের ফল পায়। শুভ কর্মের শুভ ফল, অশুভ কর্মের অশুভ ফল। মানুষকে কর্ম করতে হয়, কর্মের ফলও ভোগতে হয় - এই জর্ম্মেই হোক আর জর্মান্তরেই হোক  !  মহাভারতে আবির্ভূত হয়েছেন বহু মুনি, ঋষি, যোগী পুরুষ, বহু মহাপুরুষ, অসংখ্য দার্শনিক ও অবতার। তাঁরা আমাদের উপহার দিয়েছেন দুটি তত্ত্ব। একটি দার্শনিক তত্ত্ব বা দার্শনিক সিদ্ধান্ত, অপরটি হল ধার্মিক তত্ত্ব বা ধার্মিক সিদ্ধান্ত। প্রথমটিতে পাওয়া যায় জ্ঞান তত্ত্ব, দ্বিতীয়টিতে পাওয়া যায় জীবন ধারণের জন্য সামাজিক কর্তব্য বা জীবন দর্শন। মহামতি ব্যাসদেব উপহার দিয়েছেন মহাভারতের অন্তর্গত  "শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা" যা অনুশীলন বা অনুসরণের মাধ্যমে মানুষ মোক্ষধাম বা অদ্বৈতধামে পৌঁছাবার পথে অগ্রসর হয়। 

অর্জুনের বিষাদকে দূর করার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ " শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা "। এই নির্দেশ অনুসরণ করলে নিশ্চয় সুখ শান্তি অনুভব করতে পারবে এবং পুনজর্ম্মের আর কোন সম্ভাবনা থাকবে না। তাই ভগবান বলিলেন - " মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনজর্ম্ম ন বিদ্যতে "। জর্ম্ম মানেই ব্যাধি, জরা, মৃত্যু, কষ্ট। গীতাতে জর্ম্মমৃত্যুর চক্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখিয়েছেন। ইহা ক্রিয়া সাপেক্ষ এবং অনুভূতি সাপেক্ষ। অনেকবার উপদেশ শুনার পরে অর্জুনের মোহ ও সংশয় দুর হয়েছিল। পথভ্রষ্ট মানব জাতিকে সঠিক পথের অনুসন্ধান করাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখঃনিসৃত এই অমৃত বাণী - "শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা"।

জর্ম্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ ভয় ও সংশয়াকুল হয়ে বেঁচে থাকে। ভয় ও সংশয় মানুষ মাত্রেরই সামান্যতম বৃত্তি। ভয় ও সংশয় হয় অজ্ঞান থেকে। অর্জুনের ভয় ও সংশয় দূর হয়েছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ দ্বারা, -- কোন ঔষধ বা ইনজেকশনে নয়। আমরা সমগ্র মানবজাতি অর্জুনের প্রতীক। প্রতিমুহূর্তে আমরা ভয় ও সংশয়ের দোলায় দুলতে থাকি। আমাদের যথার্থ স্বরূপ জ্ঞান না হওয়ার জন্য আমরা দুঃখ কষ্ট ভোগ অনুভব করি। দুঃখের নিবৃত্ত হয় জ্ঞানের উদয় হলে। দুঃখ ও কষ্ট এগুলি মানুষের সৃষ্ট এবং সমস্যা সে নিজেই সৃষ্টি করে। সমস্যার সমাধান খুঁজে মন্দির, মসজিদ, গির্জায় বা দেবদেবীর সম্মুখে। ভগবান কারো সমস্যা সৃষ্টি করে না। অবিদ্যা ও অজ্ঞানের জন্য মোহ মায়ার আবর্তে পড়ে আমরা দুঃখ কষ্টে জর্জরিত হই।আমাদের সৃষ্ট সমস্যা আমাদেরকেই সমাধান করতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেবল অর্জুনের ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়েছিলেন। গুরুরূপি শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত বা শরণাপন্ন হলে আমাদেরও ভুল ভাঙ্গতে পারে। অর্জুন গীতায় শেষে বলেছিল -->>> 
" নষ্টো মোহঃ স্মৃতির্লব্ধা ত্বৎ প্রসাদান্ময়াচ্যুত।
স্থিতোঅস্মি গত সন্দেহঃ করিষ্যে বচনং তব"।।  (১৮/৭৩ শ্লোক)  

হে অচ্যুত(ভগবান) তোমার ুউপদেশে আমার মোহ নষ্ট হয়েছে। আমার কর্তব্যাকর্তব্য জ্ঞান লাভ হল। আমি স্থির হয়েছি। আমার আর কোন সংশয় নাই। আমি আপনার উপদেশ মত কার্য করব। সম্পুর্ন অর্জুনের মত শরাণগত হলে আমাদের মানসিক অবস্থার স্থিতি লাভ হবে। 

দুর্লভো বিষয় ত্যাগো দুর্লভং তত্ত্বদর্শনম্
দুর্লভা সহজাবস্থান সদগুরোঃ করুণা বিনা।।

যোগাচার্য্য স্বামী নিত্যানন্দজী 

🕉️ তৎসৎ
শিবমিতি
স্বামী নিত্যানন্দ গিরি মহারাজ
স্বামী শুদ্ধানন্দ ক্রিয়াযোগ আশ্রম
ঋষিকেশ, উত্তরাখন্ড, মায়াকুণ্ড (ভারত)

Post a Comment

Previous Post Next Post