![]() |
| গৃহীর ভগবান যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী |
প্রধান বিষয়--সূচী
_________________
✪ শ্লোক সংখ্যা ☞ ৩৪টি
➤ প্রভাবসহ জ্ঞানের বর্ননা ও বিষয় ⇨ (১-৬)
➤ জগতের উৎপত্তির বর্ননা ও বিষয় ⇨ (৭-১০)
➤ ভগবানের নিন্দাকারী আসুরী - প্রকৃতির ব্যক্তিদের নিন্দা এবং দৈবী - প্রকৃতি - সম্পর্ন ব্যক্তিদের ভগবদ্জনের প্রকার ⇨ (১১-১৫)
➤ ভগবানের স্বরূপ বর্ননা ⇨ (১৬-১৯)
➤ সকাম ও নিষ্কাম উপসনার ফল ⇨ (২০-২৫)
➤ নিষ্কাম ভক্তির মহিমা ⇨
শ্রীভগবানুবাচ
ইদং তু তে গুহ্যতমং প্রবক্ষ্যাম্যনসুয়বে।
জ্ঞানং বিজ্ঞানসহিতং যজ্জ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসে অশুভাৎ।। শ্লোক- ১
রাজবিদ্যা রাজগুহ্যং পবিত্রমিদমুত্তমম্।
প্রত্যক্ষাবগমং ধর্ম্ম্যং সুসুখং কর্ত্তুমব্যয়ম্।। শ্লোক ২
অশ্রদ্দধানাঃ পুরুষা ধর্ম্মস্যাস্য পরন্তপ।
অপ্রাপ্য মাং নিবর্ত্তন্তে মৃত্যুসংসারবত্মনি।। শ্লোক- ৩
➤ অর্থ ও তাৎপর্যঃ
রাজবিদ্যা -->> রাজযোগ অর্থাৎ সাংখ্যযোগ। রাজযোগ ও কর্মযোগ দুইই এক। রাজ-দীপ্তি বা প্রকাশ অর্থাৎ যাহা দ্বারা আত্মপ্রকাশ হয়, তাহাই রাজযোগ। সেই আত্মপ্রকাশের একমাত্র উপায় গীতোক্তো কর্মযোগ। কর্মযোগে যে অবস্থা লাভ হয়, তাহাই রাজযোগ। কর্মযোগ রাজযোগের কারণ মাত্র। --------
রাজগুহ্য -->> যাহা মুখে বলিয়া ব্যক্ত করিবার নহে।
পরম গুহ্য( কেননা ইহা অব্যক্ত বুঝাইবার নয়, নিজ বোধরূপ ) বিজ্ঞানের সহিত যে জ্ঞান দোষদৃষ্টিবীহিন তোমাকে তোমাকে বলিতেছি, যাহা জানিলে অশুভ হইতে অর্থাৎ দুঃখময় সংসার হইতে মুক্তি লাভ করিবে। আত্মতত্ত্ব জানারূপ জ্ঞান ও পরমাত্মাতত্ত্ব জানারূপ বিজ্ঞান, ইহা তোমায় এক সঙ্গে বলিতেছি, তোমায় বিজ্ঞানের সহিত জ্ঞান কহিতেছি, এই জ্ঞান এবং বিজ্ঞান অতি গুহ্য, কারণ ইহা বলিয়া বুঝাইবার নহে, নিজে কার্য্য করিয়া বুঝিতে হয়।এই জন্য ইহা অতি গুহ্য। এই জ্ঞান এবং বিজ্ঞান তোমার বোধগম্য হলে, তুমি অশুভ দুঃখময় সংসার হইতে মুক্তি লাভ করিবে।
আমরা একটু চতুর্দশ অধ্যায়য়ে জ্ঞান যোগে মনোনিবেশ করব! শ্রীভগবান এই গুহ্য জ্ঞান সম্পর্কে ১ম ও ২য় শ্লোকে কি বলেছেন ?
তিনি এমন কি গুহ্য জিনিষ সুর্য দেবকে দিয়েছিলেন ? এগুলো কি ? আমাদের জানতে ইচ্ছে করছে! যা জানলে অশুভ হইতে মুক্তি লাভ করা যায়।
ভগবান বলিলেন -- > আমি সুর্যকে এই অক্ষয় যোগ উপদেশ দিয়াছিলাম, সুর্য স্ব পুত্র মনুকে বলেছিলেন,মনু স্বপুত্র ইক্ষ্বকুকে কহিয়াছিলেন। রাজর্ষিগণ একইরূপে পরস্পর প্রাপ্ত এই অক্ষয় যোগ জানিয়েছিলেন। কেননা ইহা গুরুমুখী বিদ্যা।পড়িয়া শুনিয়া হয় না। একজনের নিকট হইতে পাইতে হয়। ইহা লিপিবদ্ধ করিবারও নহে, কেননা যাহা মুখে বলিবার নয় ( নিজে করিয়া জানিতে হয়)। এই জ্ঞান অতি গুহ্য পরম পবিত্র কার্য্য দ্বারা নিজবোধরূপ, ধর্ম্মসম্মত, সুখসাধ্য এবং অক্ষয়।
অর্জুনে মত ( ভগবানের প্রদত্ত দেওয়া জ্ঞান) আমরা পেয়ে অশ্রদ্ধা করে বসে আছি ! তাই ভগবান গীতা ৩ নং শ্লোকে অর্জুকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, হে পরন্তপ, এই ধর্মের অশ্রদ্ধাকারী পুরুষেরা আমাকে না পাইয়া মৃত্যুব্যপ্তসংসার পথে পরিভ্রমন করিয়া থাকে। অর্থাৎ প্রাণায়াম রূপ মহাধর্ম্ম, এই ধর্ম্মে যাহাদের শ্রদ্ধা নাই, সেই অশ্রদ্ধাধারী ব্যক্তিদের ভগবৎকৃপা প্রাপ্তি হয় না।একারণে তাহারা জর্ম্ম মৃত্যু ভোগ করে এবং সংসার পথে পরিভ্রমণ করিয়া থাকে।
ভগবান গীতায় ৪-৫-৬ষ্ঠ শ্লোকে উল্লেখ করেছেন, -- অব্যপ্তরূপী আমি এই জগৎ ব্যাপিয়া অবস্থান করিতেছি, চরাচর ভুত সমুখ আমাতে অবস্থিত রহিয়াছে , আমি কিন্তু সকলে অবস্থিত নহি ! অর্থাৎ ভুত সকল আমাতে আছে, কেননা আমি অব্যক্তমুর্তি অর্থাৎ - স্থিরভাব ! আমি প্রাণরূপে ভুতে না থাকিলে কিছুই থাকিত না ; কিন্তু আমি নির্লিপ্ত বলিয়া সকল ভুতে থাকিয়াও কোন ভুতে নাই ।
ভুত সকল আমাতে থাকিয়াও আমাতে নাই, অর্থাৎ আমি জানিযে, সূত্রে মালার ন্যায় তাহারা আমাতে গাঁথা আছে ; কিন্তু সে প্রাণরূপ সূত্রে তাহাদের লক্ষ্য না থাকায়, তাহারা জানেনা যে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই আমাতে বর্তমান রহিয়াছে।
ভগবান ৬ ষষ্ঠ শ্লোকে বলেছেন ---
যথাকাশস্থিতো নিত্যং বায়ুঃ সর্বত্রগো মহান।
ততা সর্বাণি ভূতানি মৎস্থানীত্যুপধারয়।। ৬ শ্লোক।
বায়ু যেমন আকাশে থাকিয়াও আকাশের সহিত মিশে না, তেমনি ভূতসকল আমাতে থাকিয়াও চঞ্চলভাব হেতু আমাতে মিশে না অর্থাৎ আমাকে লক্ষ্য করিতে পারে না। গুরপদিষ্ঠ সাধন দ্বারা যিনি স্থিরত্ব লাভ করিতে পারেন, তিনিই উপলব্ধি করিতে পারেন।
সর্বভূতানি কৌন্তেয় প্রকৃতিং যান্তি মামিকাম।
কল্পক্ষয়ে পুনস্তানি কল্পাদৌ বিসৃজাম্যহম্।। ৭শ্লোক -
হে কৌন্তেয় প্রলয়কালে সর্ব্বভূত মদীয় প্রকৃতি প্রাপ্ত হয়। প্রকৃতি => ক্ষিত্যপতেজোমরুদব্যেম, মন, বুদ্ধি, অহংকার !
অর্থাৎ, দেহত্যাগের পর জীব অষ্টপ্রকৃতি ছাড়া নহে, এই অষ্টপ্রকৃতি জড়িত হইয়া থাকে। এই অষ্টধা প্রকৃতি অণুস্বরূপে(সূক্ষ্ণ - শূন্যস্বরূপে দেহীর(জীবাত্মার) অণুগমন করিয়া পুনরায় জীবরূপে উৎপন্ন হয়। এইকারনে বলিতেছেন,
" প্রলয়কালে সকল ভূত মদীয় প্রকৃতি প্রাপ্ত হয় " সৃষ্টি কালে আবার তাহাদিগকে উৎপাদন করি"।
মোঘাশা মোঘকর্ম্মাণো মোঘজ্ঞানা বিচেতসঃ।
রাক্ষসীমাসুরীঞ্চৈব প্রকৃতিং মোহিনীং শ্রিতাঃ।।(১২ শ্লোক)
তাৎপর্য >> যাহারা বুদ্ধিভ্রংশকারী তামশী ও রাজসী প্রকৃতি অবলম্বনকারী, বিফলাশা বিশিষ্ট, বিফলকর্মা ও বিফল বৃথা জ্ঞান বিশিষ্ট, বিক্ষিপ্ত চিত্ত মুর্খগণ সর্বভূতমহেশ্বর আমার পরমতত্ত্ব না জানিয়া মনুষ্যদেহধারী আমাকে অবজ্ঞা করিয়া থাকে। অর্থাৎ, যে আশায় কোন ফল নাই এইরূপ নিষ্ফল আশায় যাহারা সর্বদা জড়িত এবং বৃথা কর্ম্মে জড়িত অর্থাৎ, মোক্ষলাভ চেষ্ঠায় যাদের বুদ্ধি যায় না, সেই চঞ্চলচিত্ত্ব জ্ঞানহীনগণ আমার পরম তত্ব জানে না। ইহা না জানার কারণে তাহারা মনুষ্যদেহধারী আমাকে অবজ্ঞা করে। অর্থাৎ সর্ব্বব্রহ্মময়রূপে আমি যে সকল দেহের অভ্যন্তরে থাকিয়া মনুষ্যদেহধারীরূপে রহিয়াছি, ইহা তাহারা জানেনা না, কারণ তাহাদের ঐ অভ্যন্তরিস্থিত বস্ততে লক্ষ্য নাই। তাহাদের লক্ষ্য জড়তত্ত্ব হাড় মাংসের উপর। একারনে তাহারা আমাকে অবজ্ঞা তাচ্ছিল্য করে( জীবের প্রতিঘৃণা করিয়া থাকে)।
সততং কীর্ত্তয়ন্তো মাং যতন্তশ্চ দৃঢ়ব্রতাঃ।
নমস্যন্তশ্চ মাং ভক্ত্যা নিত্যযুক্তা উপাসতে।। শ্লোক- ১৪
তাৎপর্য >> কেহ কেহ সর্বদা কীর্তন করিয়া, কেহ কেহ ভক্তি সহকারে প্রণাম করিয়া, কেহ কেহ দৃঢ় নিয়মস্থ হইয়া প্রযত্ন সহিত, আমার ভজনা করেন এবং সদা সর্বদা আমাতে বিভোর রূপে আটকাইয়া থাকিয়া আমাতেই তন্ময়রূপ কীর্তন দ্বারা ভজনা করেন। এই তন্ময় বিভোর অবস্থাই প্রকৃত কীর্তন। স্তোত্রমন্রাদি দ্বারা ভগবানের নাম উচ্চারণ গৌণ কীর্তন। স্তোত্রমন্রাদি মুখে উচ্চারণ করিলেই কীর্তন হয় না। গুরুপদিষ্ট সাধনা দ্বারা যখন জিহ্বা, ওষ্ঠ, চক্ষুঃ, মন ও প্রাণ স্পন্দিত হয় না তখনই ঠিক মুখ্য কীর্তন। স্তোত্রমন্রাদি দ্বারা ভগবানের নাম উচ্চারণ করা গৌন কীর্তন। বর্তমানে গৌন কীর্তন দ্বারা মোক্ষ লাভ অসম্ভব। কারণ জলপান ব্যতিত কেবল মাত্র জলের নাম উচ্চারণে তৃষ্ণা নিবারণ হওয়া সম্ভবপর নহে। তবে গৌরাঙ্গদেব যে সংকীর্তনের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন তাহা সাধরনের রুচি আকর্ষণের জন্য, উহা মোক্ষ লাভের জন্য নয়। যাহারা মুখ্য কীর্তন জানেনা, বর্তমানে গৌন কীর্তন তাহাদের অকরণীয় নহে। কেহ কেহ সাধনায় প্রযত্ন সহিত ওঁকার ক্রিয়া দ্বারা ভক্তিযুক্ত প্রণাম করিয়া আমাকে ভজনা করেন। (প্রণাম --- গুরুপদিষ্ট ওঁকার ক্রিয়া !)
(অহম্ ক্রুতুঃ অহম্ যজ্ঞঃ স্বধা, অহম্ অহম্ ঔষধম্।
মন্রঃ অহম্, অহম্ এব,আজ্যম্ অহম্ অগ্নিঃ, অহম্ হুতম্।।) (১৬শ্লোক)
তাৎপর্য >> আমিই অগ্নিষ্টোমাদি যজ্ঞ, আমিই পঞ্চযজ্ঞ, আমিই পিত্রর্থ শ্রাদ্ধাাদি, আমিই ঔষধ, আমিই মন্র, আমিই অগ্নি, আমিই হোম,
এই শ্লোকে আমিই ক্রতু, আমিই যজ্ঞ, আভিধানিক মতে ক্রতু অর্থে সোমরস সাধ্য যাগ, দেহ মধ্যেস্থ চন্দ্রনাড়ীরূপ ঈড়ায় যে বায়ু প্রবাহিত হইতেছে সেই "চন্দ্রাৎ গলিত" সুধাই (ঐ বায়ু ধারাই) সোমরস। যাগরূপ ক্রিয়া(আত্মক্রিয়া)দ্বারা ঐ বায়ু- ধারাকে সাধ্যায়ত্ত করা যায়। উহাকে সাধ্যায়ত্ত করিতে পারিলে কর্ম্মের অতীত অবস্থারূপ স্থিতি প্রাপ্ত হইয়া অমৃতপানে অমরত্ব লাভ করা যায়। অগ্নিষ্টোমাদি যজ্ঞও আমি অর্থাৎ মণিপুর চক্রে জঠরাগ্নিরূপ যে ব্রহ্মাগ্নি আছে ঐ অগ্নিতে ওঁম কার ক্রিয়া দ্বারা আহুতি প্রদানরূপ যে যজ্ঞ সেই যজ্ঞ আমিই। আমি পিত্রর্থ শ্রদ্ধাদি অর্থাৎ প্রাণই পিতা প্রাণকর্ম্মের দ্বারা প্রাণকে অধঃ হইতে ঊর্ধ্বে স্থিতি করিতে পারিলেই প্রকৃত পিতা উদ্দ্বার হইয়া থাকে। প্রাণরূপী আত্মার ক্রিয়াই-- প্রকৃত শ্রদ্ধাদি! আমি ঔষধ অর্থাৎ আমাতে থাকার চাইতে আর ঔষধ নাই, আমাতে( আত্মাতে) মনোনিবেশ থাকিতে পারে, তাহারই ভবব্যাধি নিবারিত হয়। তাই আমি ঔষধ। আমি মন্র অর্থাৎ আমাকে প্রাপ্ত হলে( মন স্থির হলেই) চঞ্চলতা হইতে মনের ত্রাণ বা উদ্ধার হইয়া থাকে। নিঃশ্বাসরূপ স্থির অবস্থাই মন্র পদবাচ্য।
" শিবাদিকৃমি পর্য্যন্তং প্রাণিনাং প্রাণবর্দ্ধনঃ নিঃশ্বাসঃ শ্বাসরূপেণ মন্রবৎ বর্ত্ততে প্রিয়ে "
(ইতি তন্র) আমিই প্রাণবায়ু ঘৃত, আমিই জঠরাগ্নিরূপ অগ্নি এবং আমিই হোম অর্থাৎ বর্তমান প্রাণের লয়াবস্থারূপ হোম আমি।
যান্তি দেবব্রতাঃ দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যাঃ যান্তি মদ্ যাজিনঃ অপি মাম্।। (২৫শ্লোক)
তাৎপর্য >> দেবার্চনাকারীগণ দেবলোক প্রাপ্ত হন, শ্রাদ্ধাদি দ্বারা পিতৃগণের অর্চনাকারীগন পিতৃলোক প্রাপ্ত হন, ভূত পুজাকারীগণ ভুতলোক প্রাপ্ত হন, আর আমার অর্চনাকারীগণ অর্থাৎ পরমাত্মানিষ্ঠাগণ আমাকেই প্রাপ্ত হন।
( বর্তমান প্রাণকে ব্রহ্মে লয় করার নামই পিতৃযজ্ঞ। কূটস্থ মন্ডলই পিতৃলোক। ভূতযজ্ঞ৷ = ভূত অর্থাৎ প্রাণের পঞ্চতত্তময় চঞ্চলতাভাব।এই চঞ্চলতা ভাব যাহরা সম্যক বৃদ্ধি করিয়া তাঁহারাই ভূত পুজারীগণ। এই ভুত যজ্ঞকারী ভূতলোক প্রাপ্ত হন। পঞ্চতত্ত্বময় দেহপ্রাপ্তিরূপ জর্ম্মান্তর প্রাপ্ত হন)
পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি।
তদহং ভক্ত্যুপহৃতম্ অশ্মামি প্রযতাত্মনঃ ।। ২৬ শ্লোক
তাৎপর্য >> যিনি আমাকে ভক্তি--সককারে পত্র, পুষ্প, ফল ও জল প্রদান করেন, আমি সেই সংযতাত্মা ব্যক্তি কতৃক ভক্তি পূর্বক উপহার-রূপে প্রদত্ত পত্রপুষ্পাদি গ্রহন করি।
ভক্তি সাধনের ধন, জ্ঞান ও ভক্তিতে কোন প্রভেদ নেই। যাঁহার প্রকৃত জ্ঞান হয়, তাঁহার শরীর ভক্তিরসে আপ্লুত হয়। ভগবান দ্বাদশ অধ্যায়ে ১৩--২০ শ্লোক পর্যন্ত ভক্তির যে লক্ষণ বলিয়াছেন বিনা সাধনে তাহা কখনোই হইবার নহে। প্রযতাত্মা অর্থাৎ সংযাত্মা হইয়া প্রকৃত ভক্তির সহিত যিনি পত্র পুষ্পাদি আমাকে দেন তাঁহাদেরই পুষ্পাদি আমি গ্রহন করি। প্রযতাত্মা হইতে গেলে যোগসাধন অবলম্বন করিতে হয়, কিন্তু আমরা তাহা করি কই ? সংযতাত্মা ছাড়া অন্যব্যক্তি যথার্থ পুজা বা ধ্যান জানেই না। একারনেই অন্যের দ্বারা প্রকৃত পুজা পুষ্পাদি অর্পণ হয় না( ১৭২৮টি উত্তম প্রাণকর্ম্মের দ্বারা ধ্যান হইয়া থাকে, কেবল মাত্র মন্র উচ্চারণ করেলে ধ্যান হয় না) এজন্যই ব্রাহ্মণের দ্বারা পজা পদ্ধতির বিধি আছে। অর্থাৎ সংযতাত্মাই প্রকৃত ব্রাহ্মণ। এইরূপ সংযতাত্মা হইয়া পত্র পুষ্পাদি প্রদান করিতে পারিলেই ভগবান তা গ্রহন করিয়া থাকেন, নচেৎ নয়।
কর্ম্মফলের বন্ধন থেকে, হবে তুমি মুক্ত।
মুক্ত হয়ে আমায় পাবে, হলে সন্ন্যাস যুক্ত।। শ্লোক ২৮
তাৎপর্য >> যদি রত্নাকরের ন্যায় দূরাচারও পাইয়া থাকে, তবে সকলেই তাঁহাকে পাইতে পারে!
প্রিয়াপ্রিয় নেই কিছু মোর, সমান সর্বভুত।
ভক্তিমান আমার পূজক, উভয় একাত্মক।। ২৯
অতি দুরাচারী যদি, একমনে ভজে আমায়।
সাধুবলে বিবেচ্য সেই, সে যে দৃঢ়নিশ্চয়।।
স্ত্রী বৈশ্য শূদ্র কিম্বা, যারা পাপযোনি জাত।
মমাশ্রয়ে তারাও নিশ্চিত, পাবে পরম গতি প্রাপ্ত।। ৩২
ভগবান এই অধ্যায়ের শেষ শ্লোকে বলছেন -
মন্মনাঃ ভব মদ্ভক্তঃ মদযাজী মাম্ নমস্কুরু
মাম্ এব এষ্যসি যুক্তা এবম্ আত্মানম্ তৎপরায়ণঃ (৩৪ শ্লোক)
তাৎপর্য >> তুমি মদ্গতচিত্ত মদ্ভক্ত এবং আমার উপাসক হয়, আমাকেই নমস্কার কর মৎপরায়ণ হইয়া একইরূপে মনকে(আমাকে) সমাহিত করিলে আমাকেই প্রাপ্ত হইবে।
★ মন্মনা -->> যিনি আপনাতে আপনি থাকেন
★ মদ্ যাজী -->> যিনি আত্মক্রিয়া করেন
★ মাং নমস্কুরু -->> আপনাকে আপনি ওঁম কার ক্রিয়াদ্বারা নমস্কার কর
★ মৎপরায়ণঃ -->> যিনি আপনা ব্যতীত আর কিছু দেখেন না অর্থাৎ যখন -->
" সর্বং ব্রহ্মময়ং জগৎ" দেখেন। তখন সংসার জ্ঞানের চক্ষে সংসার অনিত্য !
হরি ওঁ তৎসৎ
প্রাণোহি ভগবানীশঃ প্রাণো বিষ্ণুঃ পিতামহঃ।
প্রাণেন ধার্যতে লোকঃ সর্বং প্রাণময়ং জগৎ।।
অতএব, ১৬--২৯ শ্লোক পর্যন্ত যাহা বলিলেন, - সকলেই তিনি। সুতারাং প্রাণের সাধন করিলে এই শ্লোকগুলির নিগূঢ় তাৎপর্য নিজ বোধগম্য হবেন।

ওম্ তৎসৎ 🕉️🌹🌷🙏
ReplyDeletePost a Comment