Top News

ক্রিয়া যোগে কৃষ্ণ কথা (KRIYA YOGA KRISHNA KATHA)

ক্রিয়া যোগে কৃষ্ণ কথা (KRIYA YOGA KRISHNA KATHA)

     যোগাচার্য্য পঞ্চানন ভট্টাচার্য মহাশয় 

শ্রীভগবানুবাচ
ভূয় এব মহাবাহো শৃণু মে পরমং বচঃ। 
যত্তে অহং প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়া।।(১শ্লোক)

তাৎপর্য ->>  শ্রীভগবান কহিলেন হে মহাবাহো( যিনি উত্তম বাহু বিশিষ্ট তিনিই মহাবাহু) বাহু অর্থে বহ = বহন করা উ= উত্তম। এখানে অর্জুন হইতেছেন তেজতত্ত্ব সরূপ। নাভিস্থিত তেজস্তত্ত্ব কতৃক প্রাণ ও অপানাদি বহন ক্রিয়া উত্তমরূপে সম্পাদিত হয় বলিয়া অর্জুনকে মহাবাহো সম্বোধন করিয়া বলিতেছেন। অর্জুন পুনরায় তুমি আমার পরমাত্মনিষ্ঠ বাক্য শ্রবণ কর। যাহা দ্বারা পরমাত্মায় নিঃশেষরূপে স্থিতি প্রাপ্ত হওয়া যায়। আমি তাহার উপায়রূপ বাক্য তোমার হিতের জন্য আবার বলিতেছি। 

ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ। 
অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাঞ্চ সর্ব্বশঃ।।(২ শ্লোক)

তাৎপর্য ->> দেবলোক -রূপ আজ্ঞাচক্রে (আকাশে) যাঁহারা স্থিতি লাভ করিয়াছেন অর্থাৎ যাঁহাদের খেচরী সিদ্ধ হইয়াছে এইরূপ দেবগণও( আজ্ঞাচক্রের ঊর্ধ্বস্থিত) আমার আবির্ভাব অবগত নহেন এবং যাঁহারা কূটস্থ মধ্যে আমাকে মহৎরূপে দর্শন করিতেছেন এরূপ মহর্ষিগণও আমার আবির্ভাব সম্পর্কে অবগত নহেন ; যেহেতু আমি সর্বতো ভাবে আদি। ঋষিভাব দেবভাব প্রভৃতি যতকিছু ভাব আছে আমি সকল ভাবেরই অতীত ভাবাতীত ব্রহ্ম, অর্থাৎ দেবলোক রূপ আজ্ঞাচক্র এবং মহৎ জ্যোতিঃ দর্শনের স্থানরূপ যে কূটস্থ মন্ডল, আমি উহারও ঊর্ধ্বে ( কূটস্থেরও ঊর্ধ্বে)  ভাবাতীত নিরঞ্জন ব্রহ্মরূপে রহিয়াছি। সে স্থানে দ্রষ্টা বা দৃশ্য কিছুই নেই। কেবল মাত্র ব্রহ্ম [ ঐ ব্রহ্মের উপাসনা হইতেই মহর্ষিগণ দেবতাগণ,মহর্ষি দেবর্ষি উপাধি বিশিষ্ট হইয়াছেন ] ইহারা কেউ আমার আবির্ভাব জানেন না, কারণ আমকে জানিতে গেলে যিনি জানিতে যান তিনি আমিই( ব্রহ্মে লীন ) হইয়া যান। তখন দ্রষ্টা বা দৃশ্য কিছুই থাকে না। সে অবস্থায় দেব, ঋষি প্রভৃতি সকল উপাধি নাশ হইয়া যায়। তাই কেহই আমার আবির্ভাব জ্ঞাত নহেন। 

★ ঋষি  -->> দেখিয়া যিনি বলেন। সুতারং তখনও দ্রষ্টব্য ও দৃশ্য আছে। অতএব যাঁহারা ঋষি উপাধি বিশিষ্ট, তাঁহারাও আমাকে জানেন না। যিনি আমাকে জানেন, তিনি - আমি - হইয়া যান, তাঁহার কোন উপাধি থাকে না। 
★ প্রাণই আত্মা বা ঈশ্বর। মহেশ্বর অর্থাৎ পরমাত্মা বা প্রাণের প্রাণ, প্রাণের আধার স্বরুপ সেই স্থিরটুকু। যিনি প্রাণকে ধরিয়া রাখিয়াছেন( যে রুদ্রাস্তে খলু প্রাণাঃ ইত্যাদি) তাঁহার আদি অন্ত স্থির। সুতারং মধ্যও স্থির - তবে আমি চঞ্চল বলিয়া সেই স্থির টুকু ধরিতে পারিতেছি না - চঞ্চল বলিতেছি। তিনি সকল লোকেই আছেন -- সুতারং সর্বলোক - মহেশ্বর। 

মহর্ষয়ঃ সপ্ত পূর্ব্বে চত্বারো মনবস্তথা। 
মদ্ভাবা মানসা জাতা যেষাং লোক ইমাঃ প্রজাঃ।। (৬ শ্লোক)

তাৎপর্য -->> ভৃগুপ্রভৃতি সাতজন মহর্ষি, অভিধান মতে- সাত মহর্ষি অর্থে মরীচি - অত্রি - অঙ্গিরাঃ - পুলস্ত্য - পুলহ - ক্রুতু ও বশিষ্ঠ। এই সাতজন উপাধিবিশিষ্টকে সপ্তর্ষি বলা হইয়াছে।ভগবান এখানে হস্তপদ বিশিষ্ট ঋষির কথা বলিতেছেন না। এই সকল নাম প্রণেরই উপাধি মাত্র। [ প্রমাণ ছান্দোগ্য উপনিষদ ২য় খন্ড ] আকাশে যে সপ্তর্ষি মন্ডল রূপ নক্ষত্র দেখা যায়, এধরণের  আরো বহুবিধ নক্ষত্র জীবের কূটস্থ স্থান রূপ হৃদয় আকাশেও রহিয়াছে,[অর্জুন বিশ্বরূপ দর্শনযোগে এই সকল নিজ শরীরের অভ্যন্তরে কূটস্থের মধ্যে দেখেছিলেন] ইহারা সপ্ত বায়ুরূপে দেহরূপ ক্ষুদ্র ব্রহ্মান্ডে ব্যাপ্ত রহিয়াছে। এই সাত বায়ু হল ৪৯ বায়ুর একত্রীভূত রূপ অবস্থা। অর্থাৎ এই সপ্ত প্রধান বায়ু হইতেই (৭×৭) = ৪৯ বায়ুর প্রকাশ পাইয়াছে। সপ্ত বায়ুর ক্রিয়াযোগের দ্বারা ৪৯ বায়ুর প্রকাশ হইতেছে বলিয়া ঐ বায়ুই ৪৯ বায়ুর একত্রীভূতরূপ অবস্থা। 
সপ্তবায়ুর নাম গুলো কি জেনে নিই -->>
★ প্রবহ  ---->>   প্রাণ বায়ু
★ সংবহ --->>   অপান বায়ু 
★ বিবহ ---->>   সমান বায়ু 
★ উদ্বহ ---->>   ব্যান বায়ু 
★ আবহ ---->> উদান বায়ু 
★ পরিবহ --->>স্থির বায়ু( গান্ধারী নাড়ীস্থ)
★ পরাবহ---->> স্থির বায়ু( হস্তিনী নাড়ীস্থ)

ইহারা প্রত্যকে সপ্ত প্রকার কার্যকারিতা রূপে প্রত্যকেই সাত উপাধি বিশিষ্ট এবং প্রত্যকেই সাত বায়ু বিশিষ্ট হইয়াছেন ( ৭×৭)= ৪৯ বায়ু। 
যেমন অপানবায়ুর সপ্ত উপাধি -- >>
★ সংবহ
★ সমীর
★ অজগৎ প্রাণ
★ সকম্পন
★ আবক
★ চঞ্চল 
★ পৃষতাং পতি
এই রূপে প্রধান সপ্ত বায়ুগণ প্রত্যকেই সপ্তগুণ ও সপ্ত উপাধি বিশিষ্ট। 
এই সাত বায়ুই সপ্ত মহর্ষি - পদবাচ্য  ! 

শাস্ত্র মতে প্রাণ অপেক্ষা মহৎ আর কিছুই নাই। প্রাণই মহর্ষি। হস্ত-পদ বিশিষ্ট ঋষিগণ সাধনা দ্বারা মহৎ প্রাণকেই লাভ করিয়া ঋষি উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। ছান্দোগ্য উপনিষদে উক্ত আছে যে -- শতার্চ্চি নামক ঋষি শত বৎসর প্রাণের উপাসনা দ্বারা শতার্চ্চি নাম- বিশিষ্ট হইয়াছিলেন। গীতাতেও ভগবান বলিতেছেন যে " অহং ক্রতুঃ" এবং " মরীচির্মরুতামস্মি " ইত্যাদি। অতএব প্রাণই সপ্ত বায়ুরূপে সাত মহর্ষি পদবাচ্য। 

"চত্বারো মনবস্তথা" -->> প্রাণই "চত্বারো মনবঃ" বা চারি মনু।  মনু অর্থাৎ  মন বোধ করা। এই মনই স্বয়ম্ভু -- কারণ মনের উৎপত্তি প্রাণ হইতে, প্রাণের চঞ্চলাবস্থায় চঞ্চল মনের উৎপত্তি হয়।প্রাণ স্থির হলেই বর্তমান মনও স্থির হয়ে যায়। সাত মহর্ষি ও চারি মনু আমার ভাব হইতে মনেতে জাত। মনোরূপ মনু ৪ যুগেই উৎপন্ন হন বলিয়া চত্বারো মনবঃ উক্ত হইতেছে। অজপারূপ কাল যাহা চলিতেছে,  -- এই কাল কখনো স্বত্বগুণে কখনো রজোগুণে, কখনো তমোগুণে এবং কখনো রজস্তমো দুই গুণে থাকে, কালের মিলন অবস্থার নামই যুগ। রজস্তমোরূপ ঈড়া ও পিঙ্গলার কাল যাহা চলিতেছে ঐ ঈড়া পিঙ্গলার গতি সুষুন্মায় মিলিত হইয়া যখন গতি স্থির অবস্থা রূপ স্থিতি হয় সেই ( ঈড়া-পিঙ্গলার মিলন) অবস্থার নামই প্রকৃত যুগ। উহাই সত্য যুগের অবস্থা। ইহার পর যে ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি, সেই সকল ইহারই ভাবান্তররূপ অবস্থা মাত্র। এই যুগের ভাবান্তর হইতে অপর তিন যুগের প্রকাশ হইয়াছে। উক্ত সত্য যুগে স্থির মনোরূপ মনের উৎপত্তি। পরে অজপারূপ কাল যখন স্বত্বগুণ(সুষুন্মা) হইতে রজোগুণে (পিঙ্গলায়) আসিয়া চঞ্চল গতি বিশিষ্ট হয়, তখন উপরিউক্ত যুগের ভাবান্তর হইয়া পিঙ্গলার গতি বিশিষ্ট রূপ ত্রেতা যুগের প্রকাশ অবস্থা হয়। এ অবস্থায় চঞ্চল মনোরূপ মনু উৎপন্ন হয়।[ কেননা প্রাণ চঞ্চল হইলে মনও চঞ্চল ] আবার এই পিঙ্গলার গতি স্থিরে লয় হইলে সেই ( প্রলয়) অবস্থার পর কাল যখন পুনঃ রজোস্তম ( পিঙ্গলা ু ঈড়া) দু য়েতে চলিতে থাকে, তখন দ্বাপর যুগের অবস্থা হয়। এ অবস্থাতেও চঞ্চল মনোরূপ মনু উৎপন্ন হয়। তাহার পর ঐ ঈড়া পিঙ্গলা উভয়েরই গতি স্থিরে লয় প্রাপ্ত হইয়া সে অবস্থার পর আবার যখন কেবলমাত্র তমোগুণরূপ ঈড়ার কাল চলিতে থাকে, তখন কলিযুগের অবস্থা হয়। এ অবস্থাতেও চঞ্চল মনোরূপ মনু উৎপন্ন হয়। একইরূপে দেহরূপ ক্ষুদ্র ব্রহ্মান্ডে চারি যুগে মনুর উৎপত্তি হয়।মনোরূপি চারি মনু  এবং বায়ুরূপি সপ্তঋষি ইহারা আমার ভাব হইতে ( আত্মভাব হইতে) আত্মভাবের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা রূপে মনেতে জাত! মন না থাকিলে কিছুই নাই --- সবই লয়প্রাপ্ত। সমুদয় যতলোক দেখিতেছ, সব ইহাদেরই প্রজারূপ সন্তান। অর্থাৎ প্রজা প্রকৃষ্ট রূপে জাত হইয়া ঐ সপ্ত বায়ু ও চারি মনু ইহারাই প্রকৃষ্ট রূপে উৎপন্ন হইয়া সন্তান বিস্তার রূপ অবস্থায় লোক সৃষ্টির প্রকাশ। সন্তান অর্থাৎ সম - সম্যকরূপে,  ত= বিস্তার করা,  ৭ বায়ু হইতে ৪৯ বায়ুর বিস্তার হইয়া লোক সৃষ্টি হইতেছে  এবং সৃষ্টি স্থিতি, সব মন কতৃক বোধ হইতেছে।[ ইহাই স্থির প্রাণরূপ আত্মার বিভূতি ]একারণে ভগবান বলিতেছেন যে, সপ্ত মহর্ষি ও চারি মনু ইহারা আমরই ভাব হইতে মানসে জাত অর্থাৎ মানসপুত্র লোক সকল যাহা দেখিতেছ,  সব ইহাদেরই প্রজারূপ সন্তান। 
রুদ্রাণাং শঙ্করশ্চাস্মি বিত্তেশো যক্ষরক্ষসাম্।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                      বসূনাং পাবকশ্চাম্মি মেরুঃ শিখরিণামহম্।।(২৩ শ্লোক) 

আমি একাদশ রুদ্রগণের মধ্যে শঙ্কর, যক্ষ-রাক্ষসের মধ্যে কুবের, অষ্টবসুর মধ্যে অগ্নি এবং পর্ব্বতগণের মধ্যে সুমেরু।।২৩

তাৎপর্য। আমি রুদ্রগণের মধ্যে শঙ্কর অর্থাৎ প্রাণই রুদ্র (যথা "যে রুদ্রান্তে খলু প্রাণাঃ যে প্রাণাস্তে তদাত্মকাঃ"); এই প্রাণের প্রাণ, অপান, সমান ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন পদ বা অবস্থা রহিয়াছে; তন্মধ্যে প্রাণের স্থিরভাব-রূপ যে অবস্থা, সেই স্থির অবস্থাই মঙ্গলময় শিব বা শঙ্কর-পদবাচ্য।

একাদশ রুদ্র অর্থে- অজ, একপাৎ, অহিব্রঘ্ন, পিনাকী, অপরাজিত, ত্র্যম্বক, মহেশ্বর, বৃষাকপি, শম্ভু, হর, ঈশ্বর; প্রাণই এই একাদশ উপাধি-বিশিষ্ট রুদ্র; কেননা যিনি রুদ্র তিনিই প্রাণ, অজ অর্থে জন্ম-রহিত অর্থাৎ উৎপত্তি ও নাশ বিহীন যে আত্মা তিনিই অজ; কারণ তাঁহার মৃত্যুও নাই জন্মও নাই। একপাৎ অর্থে শব্দকল্পদ্রুমে (একপাদ) শিব; এই শিবই প্রাণ (যথা "প্রাণো হি ভগবান্ ঈশঃ" ইত্যাদি); আভিধানিক মতে অহিব্রঘ্ন অর্থে অধিদেবতা; এই অধিদেবতাও প্রাণ (৮ম অঃ ১ম ও ২য় শ্লোকের তাৎপর্য্য দ্রষ্টব্য) পিনাকীর অর্থ- পিনাক অর্থাৎ ধনুঃ ("প্রাণবো ধনুঃ শরো হ্যাত্মা ব্রহ্ম তল্লক্ষ্যমুচ্যতে") ওকাররূপ (অউ ম= ঈড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না যুক্ত) শরীরই ধনু এবং ইহা যিনি ধারণ করিয়া আছেন (অর্থাৎ নাভিতে যে রুদ্র বৈশ্বানর-রূপে তেজঃ প্রকাশ করিয়া ৩য় অঃ ২৮শ শ্লোকোত্তরূপ মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা দেহরূপ ধনু ধারণ করিয়া রহিয়াছেন) সেই প্রাণরূপী রুদ্রই পিনাকী এবং তিনিই জীব (জীবাত্মা) রূপী শিব। অপরাজিত অর্থে ৪৯ বায়ু মধ্যস্থিত পবন নামক বায়ু (পবন সমান বায়ুর একটি নাম) এই বায়ুই অপরাজিত-পদবাচ্য। ত্র্যম্বক অর্থে-ত্রি=তিন লোক, অম্বক-পিতা, অর্থাৎ তিন লোকের যিনি পিতা, ("পিতা হ বৈ প্রাণঃ") প্রাণই পিতা, তিনি আধার-স্বরূপ স্থির ব্রহ্মরূপে দেহে অবস্থিত থাকিয়া দেহের উর্দ্ধ, অধঃ, মধ্য তিন লোক বর্তমান রাখিয়াছেন; একারণ তিনিই পিতা-স্বরূপ ত্র্যম্বক। মহেশ্বর অর্থে বর্তমান প্রাণরূপী ঈশ্বরের অতীতাবস্থারূপ স্থির প্রাণ, তিনিই পরমেশ্বর-রূপ মহেশ্বর-পদবাচ্য। বৃষাকপির আভিধানিক অর্থ এইরূপ (বৃষ, ধৰ্ম্ম, অ না- কল্প কাঁপা+ই (কি-ক) সং পুং শিব; অর্থাৎ ধৰ্ম্ম অর্থে যাঁহার দ্বারা পোষণ হয়- স্থির প্রাণ আত্মা কর্তৃকই সমস্ত পোষণ হইতেছে, তিনিই ধৰ্ম্ম, কাঁপা অর্থে ৪৯ বায়ু মধ্যস্থিত প্রকম্পন নামক স্থির বায়ু (প্রকম্পন সমান বায়ুর একটি নাম) প্রাণের এই স্থির বায়ুরূপ অবস্থাই (স্থির প্রাণই) বৃষাকপিরূপ শিব-পদবাচ্য; শম্ভু অর্থে (শম্-কল্যাণ, ভূ-হওয়া+উ (ডু)=পা) যাঁহা হইতে মঙ্গল হয়, অর্থাৎ মঙ্গলময় প্রাণরূপী শিবই শম্ভু। হর অর্থে-হৃ-হরণ করা অর্থাৎ যাঁহার প্রকাশে বা স্মরণে সকল ভাবের হরণ হইয়া ভাবাতীত অবস্থা হয়, সেই প্রাণরূপী আত্মাই হর। ঈশ্বর অর্থাৎ প্রাণরূপী আত্মা যিনি, তিনিই ঈশ্বর। মোট কথা প্রাণই রুদ্র এবং তিনিই স্থির ব্রহ্মরূপে মঙ্গলময় শিব-পদবাচ্য। 

আমি যক্ষ রাক্ষসের মধ্যে কুবের- যক্ষ অর্থে দেবযোনি-বিশেষ; দেবযোনি অর্থাৎ ভূতাদি; এই ভূতাদির মধ্যে আমি কুবের, অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজঃ, মরুৎ, ব্যোম এই পঞ্চতত্বরূপ যে ভূতাদি, ইহার মধ্যে বিশুদ্ধ চক্রস্থিত ব্যোমই কুবের; এই ব্যোম হইতেছে তত্ত্বাদির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ব্যোম অর্থে- শূন্য ধাতু সে আমিই; একারণ আমিই কুবের। এই কুবেরকে বিত্তেশ (ধনাধিপতি) এবং যক্ষ রাক্ষসগণের রাজা বলে; (কৈলাস পর্ব্বতোপরি ইঁহার রাজধানী [মস্তকই হইতেছে কৈলাস] অর্থাৎ ধন-ভাণ্ডার); রাক্ষস অর্থাৎ ধন-রক্ষক; আত্মতত্ত্বরূপ ধন ভূতাদির রক্ষিত; কেননা পঞ্চতত্ত্ব যাহা চক্রে চক্রে রহিয়াছে, ঐ সকল চক্র অতিক্রম করিয়া তত্ত্বাতীত স্থানে (মস্তকে) স্থিতি লাভ করিতে পারিলে, তবে আত্মতত্ত্বরূপ ধন প্রাপ্ত হওয়া যায় অর্থাৎ উত্ত চক্র পথে যে যে গ্রন্থি আছে, (মূলাধার গ্রন্থি, হৃদয় গ্রন্থি, জিহ্বা গ্রন্থি) ঐ গ্রন্থি ভেদ করিয়া বিশুদ্ধ চক্রস্থ (কণ্ঠস্থ) বায়ুকে মস্তকোপরি স্থির করিতে পারিলেই কুবেরকে জয় করা-রূপ ব্যোমাতীত পরব্যোমে স্থিতি লাভ বা উপরিউক্ত ধন প্রাপ্ত হওয়া যায়; এই হেতু মহাভারতে অর্জুন কর্তৃক উক্ত আছে যে, "আমি নিখিল জনপদ জয় করিয়া ধন সংগ্রহ পূর্ব্বক তন্মধ্যে অবস্থিতি করি বলিয়া আমার নাম ধনঞ্জয়।” আর উক্ত আছে যে, কুত্তী শিবপূজার জন্য গান্ধারী সহ বিবাদ করিয়া অর্জুনকে এক সহস্র সুবর্ণ চম্পক আনিতে বলিলে, অর্জুন বায়ব্যশরে কুবেরকে পরাস্ত করিয়া তদীয় ভাণ্ডার হইতে এক হাজার হৈম চম্পক আহরণ করেন; তাই তিনি ধনঞ্জয় নামে খ্যাত হন, অর্থাৎ কুবের-ভাণ্ডাররূপ মস্তকোপরি যে সহস্র দল পদ্ম আছে, অর্জুন প্রাণকর্মরূপ বায়ব্যশরে কণ্ঠস্থ বায়ুকে ভেদ করিয়া তদূদ্ধে স্থিতি লাভ করিয়া কুবের-ভাণ্ডাররূপ মস্তক হইতে উক্ত (সহস্র-দল রূপ) এক সহস্র হৈম চম্পক আহরণ করেন; এই হেতু তিনি কুবের জয়ী বা ধনঞ্জয়-পদবাচ্য।

মহর্ষীণাং ভৃগুরহং গিরামস্থ্যেকমক্ষরম্। 
যজ্ঞানাং জপযজ্ঞোহস্মি স্থাবরাণাং হিমালয়ঃ।।(২৫ শ্লোক) 

আমি মহর্ষিগণের মধ্যে ভৃগু এবং বাক্য সকলের মধ্যে এক অক্ষর অর্থাৎ ওঁকার; যজ্ঞগণের মধ্যে [অজপারূপ] জপযজ্ঞ এবং স্থাবরগণের মধ্যে হিমালয়।।

তাৎপর্য-->> আমি মহর্ষিগণের মধ্যে ভৃগু অর্থাৎ অভিধানমতে ভৃগু শব্দে শিব এবং ঋষি অর্থে যাহা স্বয়ং উৎপন্ন হয়; মহর্ষি অর্থাৎ মহৎ শব্দ ঋষি-মহর্ষি, প্রাণই হইতেছেন সর্ব্বাপেক্ষা মহৎ এবং ইনি স্বয়ংই উৎপন্ন; এই প্রাণই শিব ("যে রুদ্রান্তে খলু প্রাণাঃ"), প্রাণরূপী আত্মাই হইতেছেন ভৃগু; যেহেতু শাস্ত্রমতে প্রাণাপেক্ষা মহৎ আর কিছুই নাই এবং প্রাণই সপ্ত বায়ুরূপে সাত মহর্ষিরূপে প্রকাশ; (অঙ্গিরাঃ প্রভৃতি উপাধি প্রাণেরই উপাধি) উক্ত বায়ু সমূহের যে স্থিরাবস্থা, সেই স্থির প্রাণই ভূগু পদবাচ্য; তিনি স্থির ব্রহ্মরূপে দেহের অত্যুচ্চ স্থানে নিঃশেষরূপে অবস্থিতি করিতেছেন; একারণ বলিতেছেন, আমি মহর্ষিগণ মধ্যে ভৃগু। বাক্য সকলের মধ্যে আমি একাক্ষররূপ পঁকার অর্থাৎ স্থিরপ্রাণরূপ ব্রহ্ম হইতেছেন বাক্যের অতীত; কোন বাক্য দ্বারা তাঁহার স্বরূপ ব্যক্ত করা যায় না; স্থির ব্রহ্মরূপী তিনি যথায় (কূটস্থের উর্দ্ধে) অব্যক্ত ভাবে অবস্থান করিতেছেন, তথায় বাক্যরূপ কোন শব্দই নাই; তথায় কেবলমাত্র প্রণবধ্বনি; একারণ প্রণবই তাঁহার একমাত্র বাচক (৭ম অঃ ৮ম শ্লোকের তাৎপর্য্য দ্রষ্টব্য); এই হেতু তিনি বাক্য সকলের মধ্যে একাক্ষর। আমি যজ্ঞ সকলের মধ্যে জপযজ্ঞ অর্থাৎ ৪র্থ অধ্যায়ে যে সকল যজ্ঞের কথা উক্ত হইয়াছে, ঐ যজ্ঞ সকলের মধ্যে ২৯শ শ্লোকোক্ত যে প্রাণ ও অপানের উর্দ্ধাধোগতিরূপ ক্রিয়া উহাই অজপারূপ জপযজ্ঞ এবং ঐ যজ্ঞই সার; যেহেতু ঐ যজ্ঞ দেহমধ্যে সর্ব্বদাই হইতেছে এবং ঐ যজ্ঞ না করিলে অপর কোন যজ্ঞেই অধিকার হয় না; উক্ত অজপার ক্রিয়ারূপ জপযজ্ঞই আমি; এই হেতু তিনি যজ্ঞগণের মধ্যে জপযজ্ঞ। তিনি স্থাবরগণ মধ্যে হিমালয় অর্থাৎ স্থাবররূপ স্থিতিশীল যে স্থান (সহস্রার) উহাই হিমালয়-স্বরূপ; যেহেতু ঐ স্থানেই নিঃশেষরূপ স্থিতি হইয়া থাকে অর্থাৎ [হিম শব্দে তুষার, আলয় শব্দে বাসস্থান] আজ্ঞাচক্রের উর্দ্ধস্থ সহস্রার স্থানে যে শীতল বায়ু আছে, তাহাই তুষারস্বরূপ
এবং ঐ স্থানে মিলিত হইয়া চিরস্থিতিরূপ বসতি হয় বলিয়া উক্ত স্থানই হিমালয়-স্বরূপ; আর উক্ত স্থিতিরূপ অবস্থাই তিনি; একারণ বলিতেছেন, স্থাবরগণ মধ্যে আমি হিমালয়।।

অশ্বত্থঃ সর্ব্ববৃক্ষাণাং দেবর্ষীণাঞ্চ নারদঃ।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                        গন্ধর্ব্বাণাং চিত্ররথঃ সিদ্ধানাং কপিলো মুনিঃ।।(২৬ শ্লোক)  

আমি বৃক্ষগণের মধ্যে অশ্বত্থ; দেবর্ষিগণের মধ্যে নারদ; গন্ধর্ব্ব মধ্যে চিত্ররথ এবং সিদ্ধগণের মধ্যে কপিল মুনি।। 

তাৎপর্য্য-->> আমি বৃক্ষগণ মধ্যে অশ্বত্থ অর্থাৎ কলেবররূপ দেহই হইতেছে অশ্বথ বৃক্ষ (১৫শ অঃ ১ম শ্লোকের তাৎপর্য্য দ্রষ্টব্য); এই দেহরূপ বৃক্ষমধ্যে দেহী (আত্মা) সদা বাস করিতেছেন; মহৎ ব্যক্তিগণ দেহীর ধ্যান করিয়া থাকেন অর্থাৎ এই দেহ আমার ভোগ-বিলাস-সিদ্ধির জন্য নহে, ইহা আত্মা-নারায়ণের অবস্থিতি স্থান এবং তিনি ইহাতে বিরাজিত; এইরূপ দেহমধ্যে আত্মারই ধ্যান করিয়া থাকেন; আর সাধারণ ব্যক্তিগণও এই ধ্যানে অশ্বত্থ বৃক্ষ পূজা করিয়া থাকেন যে, এই বৃক্ষমধ্যে তিনি অবস্থিতি করিতেছেন; ফলতঃ দেহরূপ অশ্বত্থ বৃক্ষেই তাঁহার প্রকাশ; একারণ উক্ত হইতেছে, "বৃক্ষগণের মধ্যে আমিই অশ্বথ বৃক্ষ।” আর দেবর্ষিগণের মধ্যে নারদ অর্থাৎ নার-জ্ঞান, দ-যে দেয়; জ্ঞানদাতা গুরুই নারদ ["আত্মা বৈ গুরুরেকঃ"] একমাত্র আত্মাই হইতেছেন গুরু; একারণ তিনিই নারদ। আমি গন্ধর্ব্বমধ্যে চিত্ররথ; গন্ধর্ব্ব-দেবযোনি অর্থাৎ আকাশাদি; এই আকাশস্থিত কূটস্থের পূর্ব্বে চিত্র-বিচিত্র যাহা দেখিতে পাওয়া যায়, তাহাই চিত্ররথ। আর সিদ্ধগণ মধ্যে আমি কপিল মুনি; কপিল অর্থে পিঙ্গলবর্ণ-যুক্ত অর্থাৎ পীতের আভাযুক্ত কৃষ্ণবর্ণ রূপ (পীতজ্যোতির মধ্যে ঘনশ্যামবর্ণ গোলাকার যে বস্তু দৃষ্ট হয়) উহাই কপিল মুনি, উহা আমিই । 
উচ্চৈঃশ্রবসমশ্বানাং বিদ্ধি মামমৃতোদ্ভবম্।
ঐরাবতং গজেন্দ্রাণাং নরাণাঞ্চ নরাধিপম্।।(২৭শ্লোক)

অশ্বগণের মধ্যে এবং গজেন্দ্রগণের মধ্যে আমাকে অমৃতার্থ ক্ষীরোদমথনোদ্ভূত উচ্চৈশ্রবাঃ এবং ঐরাবত জানিও; নরগণ মধ্যে আমাকে নরাধিপ জানিও

তাৎপর্য্য -->> ক্ষীরোদ সমুদ্র মন্থন হইতে যে অশ্ব ও হস্তী উদ্ভুত হয়, অশ্বমধ্যে আমাকে সেই অশ্ব উচ্চৈঃশ্রবা এবং গজেন্দ্রগণের মধ্যে প্রধান সেই সেই সমুদ্র মন্থনোদ্ভূত গজেন্দ্র ঐরাবত জানিও, অর্থাৎ অশ্ব অর্থে মনকে বুঝায়; কারণ অশ ধাতু ব্যাপা-যে বেগগামিত্ব হেতু বহু ভূভাগ ব্যাপিতে পারে, বর্তমান চঞ্চল মন একস্থানে বসিয়া ক্ষণেকের মধ্যে চিন্তাশীলতা দ্বারা কত দেশ ব্যাপিয়া বেড়ায়; এই হেতু মনকে অশ্ব কহা য'র, ক্ষীরোদ-মন্থনরূপ ক্রিয়া-যোগের দ্বারা যে মন উদ্ভুত (প্রকাশিত) হয়, উহা বর্তমান চঞ্চল মন নহে; উহা স্থির মন; এই স্থির মনই [সুক্ষ্ম গতি দ্বারা] ত্রিভুবন বিচরণে সমর্থ, বর্তমান চঞ্চল প্রাণের স্থির অবস্থারূপ যে স্থির মন (প্রাণের স্থিরাবস্থা) উহা আমিই; একারণ ঐ ক্ষীরোদ-মন্থনোদ্ভূত অশ্ব আমি; গজেন্দ্রগণ মধ্যেও ঐ সমুদ্রমন্থনোদ্ভূত ঐরাবত আমি; অর্থাৎ ঐরাবত অর্থে যাহা সমুদ্র হইতে উৎপন্ন ওঁকার ক্রিয়ারূপ সমুদ্রমন্থন-যোগে যে স্থির বায়ুর অবস্থা হয়, ঐ স্থির বায়ুরূপ অবস্থাই প্রভুর (ইন্দ্রের) হস্তীরূপ ঐরাবত-যাহাতে আরোহণ করিলে ধীর-মন্দগতি-শীল যানারোহণ দ্বারা অলৌকিক প্রদেশেও ভ্রমণ করিতে পারা যায় অর্থাৎ ঐ স্থির বায়ুরূপ অবস্থায় মনকে আরোহণ করাইতে পারিলে, অপূর্ব্ব দেশেও ভ্রমণ করা যায়; উক্ত স্থিরবায়ুরূপ অবস্থা আমিই; [ওঁকার ক্রিয়ারূপ মন্থনক্রিয়াযোগে ঐ উচ্চৈঃশ্রবা ঐরাবত প্রভৃতির রূপ স্বতঃ দৃষ্ট হইয়া থাকে]; একারণ গজেন্দ্রগণ মধ্যে আমি উক্ত ঐরাবত অর্থাৎ ক্ষীরোদ সমুদ্র হইতেছে দেহের মধ্যভাগরূপ হৃদয় স্থান; ক্রিয়া-যোগের দ্বারা এই স্থানকে মন্থন করিতে পারিলে, সহস্রার-বিগলিত সুধারূপ অমৃত লাভ হইয়া থাকে, মেরুমূল-স্থিত (মূলাধারস্থ) সর্পাকারা কুণ্ডলিনী শক্তিরূপ স্থির বায়ুকে নিম্ন স্থান হইতে উর্দ্ধে আনয়ন করিয়া, ঐ বায়ুরূপ রজ্জু ও মস্তকরূপ মন্দর পর্ব্বত দ্বারা ওঁকারের যে ক্রিয়া আছে, ঐ ক্রিয়া যোগেই সমুদ্র-মন্থন; এই ক্রিয়া-যোগরূপ সমুদ্র মন্থন করিতে পারিলে, সহস্রার-বিগলিত সুধা বা নিত্যানন্দরূপ অমৃত লাভ হইয়া থাকে; এই সমুদ্র মন্থনরূপ ক্রিয়াকালে একদিকে বায়ুরূপী দেবগণ ও অপর দিকে মনের বৃত্তিরূপ দৈত্যগণ দণ্ডায়মান হইয়া উভয় পক্ষই স্ব স্ব দিকে আকর্ষণ করিতে থাকে এবং উক্ত মন্থন ক্রিয়া দ্বারা আদ্যাপ্রকৃতিরূপা কমলার রূপ আদিত্য-হৃদয়ে (ভ্রূর উর্দ্ধে) প্রকাশিত হইয়া থাকে; তৎসঙ্গে উপরিউক্ত হস্তী এবং অশ্বের রূপ ও জ্যোতিৰ্ম্মগুলরূপ মণি এই সকলও ভ্রূর উর্দ্ধে লক্ষিত হইয়া থাকে। একারণ উক্ত হইতেছে, আমি ক্ষীরোদমন্থনোদ্ভূত উচ্চৈঃশ্রবা এবং ঐরাবত। নরগণ মধ্যে আমি নরাধিপ অর্থাৎ কূটস্থ চৈতন্যরূপীই নরদেহে অধিপতিরূপে প্রকাশিত; একারণ রাজা ঈশ্বরের (মানবাকারে) অবতার বিশেষ; ঈশ্বরই নরের মধ্যে নরাধিপরূপে অবতীর্ণ হইয়া দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করিয়া থাকেন এবং রাজা অনীৰ্ব্বচনীয়া মহতী শক্তি হইতে উৎপন্ন হইয়া মানবাকারে অবস্থান করিয়া থাকেন; ইহা (ঈশ্বরই যে নরাধিপরূপে অবতীর্ণ) মানবদেহধারী রাজা নিজে অবিদিত থাকিলেও নরাধিপ মধ্যে ঈশ্বর অবস্থিত; একারণ বলিতেছেন, নরগণ মধ্যে আমাকে নরাধিপ জানিও ! 
অথবা বহুতেন কিং জ্ঞানেন তবার্জুন।
বিষ্টভ্যাহমিদং কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।।(৪২শ্লোক)

ইতি বিভূতি-যোগঃ।
অথবা হে অর্জুন, এইরূপ পৃথগ্রিধ বহুজ্ঞানে তোমার প্রয়োজন কি? আমি এই সমুদয় জগৎ একাংশে ধরিয়া অবস্থিত আছি অর্থাৎ আমি ভিন্ন আর কিছুই নাই ! 
ভগবান অনস্ত; সুতরাং তাঁহার বিভূতিও অনন্ত। 
বিভূতি অর্থে আবির্ভূত (উৎপন্ন হওয়া) যোগ অর্থে মিলিত (লয় হওয়া) নানাবিধ বিভূতিরূপে বিশেষ রূপ উৎপত্তি ও ঐ উৎপত্তির লয়রূপ ভাব যাহা, (অর্থাৎ ব্রহ্ম হইতেই সব উৎপত্তি ব্রহ্মেতেই লয়) ইহাই বিভূতি-যোগ।

ইতি দশম অধ্যায় সমাপ্ত 
ওঁ তৎসৎ

Post a Comment

Previous Post Next Post